সোমবার বিকেলে বাফুফে ভবনের সামনের লবিতে তখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। ক্যামেরা প্রস্তুত, মাইক্রোফোনের তার গুছোনো হচ্ছে। এমন পরিবেশেই প্রথমবারের মতো বাফুফে ভবনে আসেন বর্তমান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তার উপস্থিতির পরপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে, স্টেডিয়াম বরাদ্দ নিয়ে বাফুফের অগ্রগতি কতদূর।
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নীলফামারী স্টেডিয়ামকে ফুটবলের জন্য বরাদ্দের ঘোষণা দেন। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে স্টেডিয়ামটি বাফুফের নামে বরাদ্দ হয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম, মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়াম, রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম, নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়াম, কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, এই ছয়টি স্টেডিয়াম ২৫ বছরের জন্য বাফুফেকে লিজ দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তাবিথ আউয়াল। কথা বলার শুরুতেই তিনি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বাফুফে ভবনে আসাকে ফুটবল উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘আজকে মাননীয় উপদেষ্টা আমাদের বাফুফে হাউসে এসেছেন। আমরা মনে করি, এভাবে যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে আসবেন, ততই খেলাটার উন্নয়নের গতি আমরা ফিরে পাব।’
এরপর তিনি বৈঠকের আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তাবিথ জানান, ‘আজ আমরা মূলত গত এক বছরে নেওয়া কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো শেয়ার করেছি। সরকার, ফিফা এবং আমাদের স্পন্সরদের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি, সেই সহযোগিতার মাধ্যমে কী ফলাফল এসেছে, সব কিছুই আমরা উপদেষ্টা মহোদয়ের সামনে উপস্থাপন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে আর্থিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা করেছে, আমরা চেয়েছি সেটি অন্তত আগামী এক বছর ন্যূনতমভাবে অব্যাহত থাকুক।’
স্টেডিয়াম প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাবিথ আউয়ালের কণ্ঠে বাস্তবতার সুর স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট অনুরোধ ছিল। কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টারের জমির কাজ সম্পূর্ণ করা, আর কিছু মানসম্পন্ন স্টেডিয়ামের প্রয়োজন ছিল। আমরা মনে করি, স্টেডিয়ামগুলো যদি বাফুফের তত্ত্বাবধানে থাকে, তাহলে সেগুলো সত্যিকার অর্থে খেলা উপযোগী করা সম্ভব।’
ঢাকার বাইরে ভেন্যুর সংকটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাবিথের ভাষায়, ‘ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস এরিনার বাইরে বর্তমানে আমাদের কাছে ফিফা টায়ার-১ মানের কোনো ভেন্যু নেই। সে কারণেই আমরা কয়েকটি স্টেডিয়াম বরাদ্দের অনুরোধ করেছিলাম, যার মধ্যে দুটির বিষয়ে উপদেষ্টা নিজেই আপনাদের জানিয়েছেন।’
এরপর কক্সবাজারের টেকনিক্যাল সেন্টার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘এখানে সাশ্রয় বা অপচয়ের প্রশ্ন নয়, মূল বিষয় হলো আইন এবং সরকারি প্রক্রিয়া। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে যেহেতু জমি আমাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বাকিটা এখন কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।’
তিনি যোগ করেন, ‘ওই বরাদ্দের কাগজ দেখিয়েই আমরা ফিফাকে বোঝাতে পেরেছি যে জমিটি আমাদের। নামজারিতে কিছুটা সময় লাগলেও ফিফা ফরওয়ার্ড কর্মসূচির অর্থ আমরা সুরক্ষিত রাখতে পেরেছি।’
চট্টগ্রামসহ অন্যান্য ভেন্যু প্রসঙ্গে প্রশ্ন এলে বাফুফের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা সবসময় আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখি। বাস্তবায়নের পথে কিছু জটিলতা আসতে পারে, কিন্তু আমরা ইতিবাচক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, দেশের ফুটবলের স্বার্থে আমরা প্রথমে দুটি স্টেডিয়াম দিয়ে শুরু করতে চাই।’
বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এসেছে। কিন্তু বাফুফে ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই বিষয়, ছোট ছোট ধাপে মাঠ প্রস্তুত করে বড় স্বপ্ন দেখার চেষ্টা।


