যাদের কাছে দেশের নারী সমাজ নিরাপদ নয়, তাদের কাছে দেশও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একদিকে নারীদের গায়ে হাত, অন্যদিকে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, এ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবেন তা সহজে বোঝা যাচ্ছে।’
মঙ্গলবার সকালে যশোরে ঈদগাহ মাঠে জেলা জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা নির্বাচনে জেতার আগেই মা-বোনের গায়ে হাত দেয় এবং বিরোধী মত দমনে কঠোর হয়, তারা জিতলে দেশ কতটা নিরাপদ থাকবে সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।’
নির্বাচিত হলে যশোরকে সিটি করপোরেশন করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, পাল্লার মাপে কোনো কম বেশি করব না। যার যা প্রাপ্য তা বুঝিয়ে দেব।’
১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সংস্কারে পক্ষে ছিলাম এবং এখনো আছি। আমরা জুলাই বিপ্লবের আলোকে দেশ নতুনভাবে গড়তে চাই। আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ।’
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে বেকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আপনাদের সমর্থনে যদি আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা হবে। বেকারদের হাতে বেকারভাতা না দিয়ে তাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’
জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনে শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলের আমির বলেন, ‘চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেমন রাজপথে সক্রিয় ছিল, আগামীতেও সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।’
পরে তিনি যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের প্রার্থী গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের প্রার্থী মুক্তার আলীসহ দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া এনসিপি ও খেলাফতে মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।


