শরতের শুভ্র নীল আকাশ দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। মণ্ডপগুলো সেজে উঠছে বাহারী সাজে। এমন দিনে যেন উৎসবের এক রঙিন নগরী হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজার। শহর থেকে গ্রাম, হাট থেকে জনপদ ঘিরে চলছে পূজার প্রস্তুতি।
এবার মৌলভীবাজারে ৯৮০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমাশিল্পীরা দেবীর মূর্তিতে এখন দিচ্ছেন তুলির আঁচড়, তরুণ-তরুণীরা ব্যস্ত অন্যান্য সাজসজ্জায়।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা। সেখানে জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হবে। কেউ যদি শান্তি-সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার (এসপি) এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো গুজব বা অপপ্রচার ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যারা এ উৎসব ভণ্ডুল করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।’
‘যেভাবে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে, ঠিক তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচনও জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে,’ যোগ করেন পুলিশ সুপার।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের সমন্বিত টহল থাকবে। এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ৪৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইসতিয়াক আহমদ মোর্শেদ, ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, পূজা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট সুনীল কুমার দাস, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস, এনএসআই উপপরিচালক মো: কবির হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ইয়ামীর আলী, প্রেসক্লাব আহবায়ক বকশী ইকবাল আহমদসহ আরও অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘মৌলভীবাজারের দুর্গোৎসব সবসময়ই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারও তাই হবে।’


