দক্ষিণ লেবাননের অন্তত চারটি শহরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত একজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ওই হামলা চালানোর আগে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তসংলগ্ন তেইর দেববা, জাওতার আল-শারকিয়া, কফর দৌনিন এবং আইতা আল-জাবাল এলাকার বাসিন্দাদের এসব এলাকা থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
ইসরায়েলের দাবি, এসব এলাকায় সশস্ত্র ঘাঁটি গেড়েছে বিদ্রোহী সংগঠন হিজবুল্লাহ। আইডিএফ-এর (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) এক মুখপাত্র জানান, বেসামরিক জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মাঝখানে অস্ত্রের গুদাম তৈরি করছে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র শাখা। তাদের অভিযোগ, এক বছর আগে মার্কিন-সমর্থিত ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সশস্ত্র সংগঠনটি তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তাদের রুখতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র শোশ বেদ্রোসিয়ান বলেন, ‘আমরা হিজবুল্লাহকে পুনরায় অস্ত্র সজ্জিত হতে, শক্তি পুনর্গঠন করতে এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে পড়তে দেব না।’
এদিকে হামলার আগে ইসরায়েলি সতর্কবার্তার পরও লেবাননের সরকারকে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় না যাওয়ার আহ্বান জানায় হিজবুল্লাহ নেতারা। তাদের দাবি, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননের বেসামরিক জনগণের জীবন হুমকিতে ফেলছে।
অবশ্য লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের বিভিন্ন হামলার অভিজ্ঞতা থেকে এবা সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরপরই বেশিরভাগ মানুষ এসব এলাকা ত্যাগ করেছেন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা অনেক কম।

সম্প্রতি বৈরুতে এক বৈঠকে হিজবুল্লাহসহ দেশের সকল অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ও তার সরকার। সেনাবাহিনীর প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস বলেন, ‘মন্ত্রিসভা সেনাবাহিনীর অগ্রগতির প্রশংসা করেছে। এখনও বাধা রয়ে গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডের পাঁচটি পাহাড়চূড়া ইসরায়েল দখল করে রেখেছে। সুউচ্চ ওই ভূমি থেকেই তারা বৈরুতের ওপর নজরদারি চলাচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।’
বৃহস্পতিবারের হামলার পর আউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লেবানন যখনই শান্তিপূর্ণ আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে, ইসরায়েল তখনই আগ্রাসন বাড়িয়ে দেয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে ইসরায়েল এটি প্রমাণ করার সব রকম চেষ্টা করেছে যে তারা দুই দেশের মধ্যে কোনো আলোচনাভিত্তিক সমাধান চায় না। তোমাদের বার্তা আমরা পেয়েছি।’
এসময় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ইসরায়েলের সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও সম্মতি জানান তিনি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ২৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৮৫০ জন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান জানান, ১০৭ জন নিহত লেবাননের বেসামরিক নাগরিক।


