ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় মা-মেয়েকে গলাকেটে হত্যার ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত কমিশনার মো. জুয়েল রানা । তবে পুলিশের কাছে হত্যাকারী সম্পর্কে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন তিনি।
সোমবার সকালে শাজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সাততলায় নিজেদের বাসায় খুন হন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)।
ওই ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরে মুখ ঢেখে লিফটে প্রবেশ করছেন এক নারী। কিছুক্ষণ পর স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে মুখ ঢেকে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
ভবনটির দারোয়ানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বোরকা পরা নারী ভবনের সাততলায় কাজ করতে গিয়েছিলেন।
হত্যাকারী বা অভিযুক্ত গৃহকর্মীর কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, সে পরিচয় দিয়েছিল তার নাম আয়েশা। আর কিছু বলেনি। এমনকি দারোয়ান তার চেহারাও দেখতে পায়নি। কারণ বোরকায় তার মুখ ঢাকা ছিল। ফলে সিসিটিভিতেও তার ছবি আসেনি।
তিনি বলেন, ‘গত চারদিন সে বাসায় ঢুকেছে, কাজ করেছে অথচ কেউ কোনো তথ্য জানে না। এমনকি গৃহকর্তাও জানেন না। তার নাম আয়েশা, এর বেশি কোনো স্পেসিফিক তথ্য এখনো পুলিশের কাছে নেই।’
এ ঘটনায় ঢাকার বাসাবাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর তা উঠে এসেছে বলে মনে করেন পুলিশ কর্মকর্তা।
জুয়েল রানা বলেন, ‘আপনারা তো জানেনই যে আমাদের এখানে দারোয়ান বা সিকিউরিটি গার্ডদের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। এই যে মেয়েটি দারোয়ানের মাধ্যমে কাজের মেয়ে হিসেবে গেল, তখনো তার মুখ ঢাকা ছিল। দারোয়ানও সেই মেয়ের চেহারা দেখেনি। এটা তো হতে পারে না। একজন অপরিচিত মানুষ ভবনে ঢুকছে তার চেহারা দারোয়ানও দেখল না, সিসিটিভিতেও দেখা গেল না।’
এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরিচিত কেউ এলে তার নাম-ঠিকানা ও আইডি কার্ডের কপি নিয়ে ঢোকাতে হবে। তাহলে সেই ব্যক্তি অপরাধী হলেও তার মধ্যে ভয় কাজ করবে।
পুলিশ অপরাধী ধরতে তৎপর উল্লেখ করে জুয়েল রানা বলেন, সেইসঙ্গে স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকতে হবে। গৃহকর্মী বা ভাড়াটিয়ার তথ্য, পরিচয়পত্র পুলিশকে দিতে হবে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে কী এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা লায়লা আফরোজের শরীরে ৩০টি আঘাত, মেয়ে নাফিসার শরীরে ছয়টি আঘাত ছিল। লায়লা আফরোজ বাসাতেই মারা গেছেন। মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একজন মানুষ কীভাবে দুজনকে হত্যা করল তা জানতে চাইলে জুয়েল রানা বলেন, এটা তদন্ত শেষে এটা বলা সম্ভব হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে দেখা যাবে যে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা।
ওই বাসা থেকে আসামির ফেলে যাওয়া বিভিন্ন উপকরণের নমুনা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু বলতে রাজি হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।


