স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির হত্যায় গ্রেপ্তার আসামি মো. বিল্লালকে (১৯ তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মো. জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিকে আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি মোসাব্বির হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ছাড়া, একই মামলায় গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি আবদুল কাদের (২৮) ও রিয়াজকে (৩১) সাত দিন করে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। অপর এক আসামি জিন্নাত (২৪) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গত ৭ জানুয়ারি রাতে ঢাকার তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একের পর এক মামলার আসামি হন এবং বেশির ভাগ সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দলীয় রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন।
মোসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২) তেজগাঁও থানায় ৭ জানুয়ারি একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিদিনের ন্যায় ঘটনার দিনও তার স্বামী আজিজুর রহমান মুসাব্বির বন্ধুদের সঙ্গে পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় আড্ডা দেন। আড্ডা শেষে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ১০ মিনিট পর তেজতুরী বাজারের আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে গতি রোধ করে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজন তাকে গুলি করে।
আসামিদের ছোড়া গুলির আঘাতে তার স্বামী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ ভুক্তভোগী মুসাব্বিরকে বাঁচাতে গেলে আসামিরা তাকেও গুলি করে। আসামিরা তাদের মৃত ভেবে পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। মাসুদকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।


