জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজার সরবরাহ ব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক। এর মধ্যে মে মাসে নতুন করে তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিস আদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা করা হয়েছে। মে মাসে এই দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
এপ্রিল মাসে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রাথমিক দিকে তেল নিয়ে হাহাকার তৈরি হলেও, মূল্যবৃদ্ধির দুয়েকদিনের মধ্যেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমে আসে।
যদিও, চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারদর এখনও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থায় ভিন্ন কাঠামো রয়েছে। উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী আদেশে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে, যার আওতায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে দাম সমন্বয় করা হয়।
সেই নীতির অংশ হিসেবেই এপ্রিল মাসে নতুন দরে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কার্যকরভাবে বাজারে বাস্তবায়িত হয়।


