অনবদ্য, অসাধারণ, নিবেদিত। মুশফিকুর রহিমকে শব্দে বাঁধা দায়। তবে শুরুর তিনটা শব্দ তার সাথে খুব খাপ খেয়ে যায়। অনুশীলনে আসেন সবার আগে, যান সবার শেষে। পরিশ্রম, একাগ্রতা আর নিবেদনের এক মূর্ত প্রতীক তিনি।
কদিন আগেই ছুঁয়েছেন ৩৯-এর ঘর, তবুও তার থামার নাম নেই। প্রতিটা বল খেলেন যেন শুরুর দিনগুলোর মতোই। সদ্য অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিমের যে উদ্যম, মুশফিকের মাঝেও সেই ছায়া খুঁজে পাবেন আপনি। ব্যাট হাতে চির তরুণ এই ক্রিকেটার টেস্ট খেলছেন ২১ বছর ধরে, তবুও দেশের সর্বোচ্চ ১৪টি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হয়েও মাঠ ছাড়েন আক্ষেপ নিয়ে।
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন খেলেছেন ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার সেঞ্চুরিতে ভর করেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে সেশনের শেষ দিকে দুই ওভার ব্যাট করে কোনো রান না তুলেই বিনা উইকেটে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। দুই দিন হাতে রেখে এই ম্যাচ জিততে পাকিস্তানকে ইতিহাস লিখতে হবে নতুন করে। কারণ চতুর্থ ইনিংসে তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ৩৮২। ২০১৫ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে পাল্লেকেলেতে এই রেকর্ড গড়েছিল পাকিস্তান।
সিলেট টেস্টে ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় তৃতীয় দিন ১১৫ রানের সময়। নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর উইকেটে মুশফিকের সাথে যোগ দেন লিটন দাস। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটারের সাথে মুশফিক পঞ্চম উইকেটে গড়েন ১২৩ রানের জুটি, যেখান থেকেই মূলত বাংলাদেশের লড়াইয়ে ফিরে আসার শুরু। হাসান আলীর বাউন্সারে ব্যক্তিগত ৬৯ রানে লিটন আউট হওয়ার আগে পঞ্চম বা এর নিচের কোনো জুটিতে এই নিয়ে সাতবার শতরানের জুটি গড়েছেন মুশফিক, যা যুগ্মভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
লিটনের বিদায়ের পর ইনিংস বড় করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজও। বোল্ড হয়েছেন খুররম শাহজাদের দারুণ এক বলে। এরপর মুশফিককে সঙ্গ দিয়েছেন টেইলএন্ডার তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে দুজন গড়েছেন ৭৩ রানের জুটি, এই জুটিতেই নিজের ১৪ তম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন মুশফিক, এর আগে হয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রান করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার।
১৭৮ বলে সেঞ্চুরি করা মুশফিক থেমেছেন সাজিদ খানকে স্লগ সুইপ করে উড়িয়ে মারতে গিয়ে। ডিপ মিড উইকেটে দিনের শেষ দিকে তার ক্যাচ ধরেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১২ চার ও এক ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ১৩৭ রানের ইনিংস, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে তার এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই সেঞ্চুরিতে পেছনে ফেলেছেন মুমিনুল হককে, যার সাথে ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে এতদিন শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করে আসছিলেন মুশফিক।
এর আগে ইনিংসের শুরুর দিকেই ফিরে যান অভিষিক্ত তানজিদ। ৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। আগের ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া মাহমুদুল হাসান জয় খেলেন ৫২ রানের ইনিংস। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৩০। চার উইকেট নেন খুররম শাহজাদ, তিন উইকেট পেয়েছেন সাজিদ খান। হাসান আলী দুইটি ও আব্বাস নিয়েছেন এক উইকেট।


