উপলক্ষ্যটা বিশাল বড়, দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলছেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ এক সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছেন নিজের মাইলফলকের ম্যাচ। ১৪৮ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন কীর্তিমানের সংখ্যা মুশফিককে নিয়ে ১১ জন। তার এই বিরল অর্জনের দিনে সেঞ্চুরি করেছেন লিটন দাসও। স্পিনাররাও শেষ বিকেলে দেখিয়েছেন ভেলকি। স্পিন জাদুতে তাইজুল ইসলাম-হাসান মুরাদরা ৯৮ রানে নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের ৫ উইকেট। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩৭৮ রানে এগিয়ে রইল বাংলাদেশ।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে পল স্টার্লিংয়ের ওয়ানডে স্টাইলের ব্যাটিংয়ে আইরিশদের শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। ২৬ বলে ২৭ রানের ইনিংসে চারটি চারের সাথে ছিল একটা ছক্কাও। যদিও সেই ঝড় থেমেছে খালেদ আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। এক প্রান্ত আগলে ছিলেন অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নি। হাসান মুরাদের হালকা বাঁক নেয়া বলে হয়েছেন লেগ বিফোরের শিকার।
দিনের সেরা বলটা করে কার্টিস ক্যাম্ফারের উইকেট নিয়েছেন মুরাদ; যাকে বলা যেতে পারে ক্লাসিক লেফট আর্ম স্পিনার ডেলিভারি। গুড লেংথে পিচ করা বলে ফ্রন্টফুটে খেলতে চেয়েছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু শেষ মুহূর্তের সূক্ষ্ম টার্নে পরাস্ত হন ক্যাম্ফার। ১০ ওভারের স্পেলে ৩ মেইডেনসহ মাত্র ১০ রানে ২ উইকেট নেন মুরাদ। ৫১ বল খেলা হ্যারি টেক্টর উইকেট দিয়েছেন তাইজুল ইসলামকে। মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন ক্যাড কারমাইকেলের উইকেট।
এর আগে মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানে থামে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে এসেছে তিনটি শতাধিক রানের জুটি। প্রথমদিন ১০৭ এসেছিল মুশফিক-মুমিনুল জুটির ব্যাটে। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে মুশফিক-লিটন তুলেছেন ১০৮ রান।
৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা মুশফিক নিজের ১৩ তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন ১৯৫ বলে। এই সেঞ্চুরির পথে আরো একটা রেকর্ডও করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। নিজের ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে হয়েছেন দেশের যুগ্ম সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ানও। মুমিনুল হকের সাথে সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরি এখন মুশফিকও। যদিও সেঞ্চুরির পর ইনিংস বেশি দূর টেনে নিতে পারেননি তিনি। হামফ্রিসের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ২১৪ বলে ৫ চারে সাজানো ১০৬ রানের ইনিংস খেলে।
মুশফিকময় এই ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন লিটনও। প্রথম দিন শেষে মাঠ ছেড়েছিলেন দুই চারের মারে ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে। দ্বিতীয় দিন ফিরে সাজিয়েছেন দারুণ সব শটের পসরা। এরপর দুই ছক্কার সাথে চার মেরেছেন আরো পাঁচটা। দুই আইরিশ স্পিনারকেও সামলেছেন দারুণ হাতে। ফুল লেন্থে পিচ করা বলে লং অন-লং অফ দিয়ে আছড়ে ফেলেছেন দুইবার। খেলেছেন দারুণ একটা রিভার্স সুইপও। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন সুইপ করে চার মেরে। এক বছরের বেশি সময় পর সেঞ্চুরির দেখা পেলেন টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান করা এই ব্যাটার। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সেঞ্চুরি ছিল তার। তার ইনিংস থেমেছে ১২৮ রানে। তার সাথে ১২৩ রানের জুটিতে মিরাজের অবদান ছিল ৪৭। ছয় উইকেট নেন অফস্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।


