মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু আফনান মারা গেছে

মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু আফনান মারা গেছে
মিয়ানমারের গুলিতে নিহত শিশু আফনান। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনান মারা গেছে।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় দেশের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয় শিশুটি।

শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হুজাইফা আফনান টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছি ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে।

শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মা সাবেকুন নাহার।

হুজাইফা আফনানের চাচা শওকত আলী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সব চেষ্টা করেও আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি। সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে অবশেষে আমাদের পরিবারের নিষ্পাপ একটি শিশুর প্রাণ চলে গেল। এই শোক কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। বাংলাদেশের ভেতরে এমন ঘটনায় নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের জীবন ঝরে পড়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

আরও পড়ুন

সীমান্তে যাতে আর কোনো শিশুর এমন পরিণতি না হয়, সে জন্য সরকারের কাছে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ জালাল টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।

এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় ছোড়া গুলি এসে পড়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন ঘরবাড়ি, ধানের জমি ও চিংড়ি ঘেরে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই দিন সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি গুলি শিশু হুজাইফা আফনানকে গুরুতর আহত করে।

ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরদিন সকালে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।

আহত অবস্থায় হুজাইফা আফনানকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

এছাড়াও গত ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে একটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আবু হানিফ (২২) নামের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঐদিন সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তে নাফ নদীর শাহজাহানের দ্বীপ ও হাঁসের দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। আহত আবু হানিফ ওই এলাকার ফজল করিমের ছেলে এবং পেশায় একজন মৎস্যজীবী।

টেকনাফ সীমান্তে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad