নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়াজ-মাহফিলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওয়াজ-মাহফিল বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। শীত মৌসুমে দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই নিয়মিত ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন হয় এবং অনেক আয়োজনের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ইসি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ধর্মীয় প্রচার তথা ওয়াজ মাহফিলের অনুষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না কেউ। ওয়াজ মাহফিলে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ওয়াজ মাহফিলের অয়োজন করতে হলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুমতি নিতে হবে।
বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের অজুহাতে এসব ধর্মীয় আয়োজনের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করলে তা সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও যদি ধর্মীয় কার্যক্রমে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়, তাহলে তা জনমানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী হবে।
আতাউর রহমান বলেন, অধিকাংশ ওয়ায়েজের চরিত্র সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তাদের ওয়াজে শতভাগ রাজনীতিমুক্ত ধর্মীয় আলোচনা থাকে। যারা রাজনৈতিক পরিচয় বহন করেন, তারাও দাওয়াতি মেজাজের কারণে ওয়াজে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন না। সে অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে ওয়াজ-মাহফিলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় বক্তারা দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করেন। এসব বিষয়কে যদি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিবেক-বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
এ কারণে ওয়াজ-মাহফিলসংক্রান্ত বিধি-নিষেধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।


