কড়াইল বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা দিল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
আগুনের ঘটনায় করাইল বস্তির পাশে বিটিসিএল গার্লস হাই স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মাঝে শুক্রবার এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম), ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সহযোগিতায় এক হাজার ৯০০ পরিবারকে হাই এনার্জি বিস্কুট (এইচইবি) বিতরণ করে ডব্লিউএফপি।
প্রতিটি পরিবার পাঁচ কেজি ওজনের একটি করে এইচইবি কার্টন পেয়েছে। রান্না বা পানির প্রয়োজন হয় না বলে জরুরি পরিস্থিতিতে এই বিস্কুট অত্যন্ত কার্যকর। প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ এইচইবি কয়েক দিনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে।
গত মঙ্গলবার ৫টা ১৯ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও এলাকার ওই বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২০টি ইউনিট প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
কড়াইল বস্তির আগুনে প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। তবে এতে হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি। জরুরি সহায়তা, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে লাখো মানুষকে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি।
২০২৪ সালেই ঘূর্ণিঝড় রেমাল ও একাধিক বন্যার পর প্রায় ২৮ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য, নগদ অর্থ ও পুনরুদ্ধার সহায়তা পৌঁছে দিয়েছিল ডব্লিউএফপি।
বাংলাদেশে সংস্থাটির অন্তর্বর্তী কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, ‘আজকের বিতরণের পরও আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় চালিয়ে যাব। প্রয়োজন হলে ডব্লিউএফপি অতিরিক্ত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’


