মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিরা সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে আইএস সেলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল বলে অভিযোগ করেছেন মালয়েশিয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ খালিদ ইসমাইল।
মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, শুক্রবার (৪ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর বুকিত আমানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি খালিদ ইসমাইল আটক বাংলাদেশিদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী ও বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সেলগুলিকে সহায়তা করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিল। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ কাউন্টার টেররিজম বিভাগ (ই-৮)-এর গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই গোষ্ঠী আইএস-এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। আটক বাংলাদেশিদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৫ জনকে ইমিগ্রেশন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে এখনও সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
খালিদ ইসমাইল বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্ত করে দেখছি তারা মোট কত টাকা সংগ্রহ করেছে। আমরা মনে করি তারা সদস্যপদ ফি এবং সদস্যদের দান থেকে এই অর্থ পেয়েছে।’
আটক বাংলাদেশিরা ‘গেরাকান মিলিটান র্যাডিকাল বাংলাদেশ (জিএমআরবি)’ নামের একটি জঙ্গী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তারা হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ ও মতবাদ প্রচার করত। এই জঙ্গিগোষ্ঠী মূলত মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে সদস্য নিয়োগ করত বলে জানান তিনি।
আইজিপি বলেন, ‘আমাদের ধারণা তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিটি সদস্যকে বার্ষিক ৫০০ রিঙ্গিত সদস্যপদ ফি দিতে হতো। তবে দানের পরিমাণ সদস্যের ইচ্ছানুযায়ী।’
গোষ্ঠীটি প্রতিবেশী দেশ বা অন্যত্র আইএস সেলের সঙ্গে যুক্ত কিনা এমন প্রশ্নে খালিদ বলেন, ‘এখনও তা তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা অন্যান্য দেশ ও ইন্টারপোলের সঙ্গে যৌথভাবে তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘তাদের সদস্যরা ছিল বাংলাদেশি শ্রমিক, কারখানার কর্মচারী এবং অন্যান্য খাতে কর্মরত ব্যক্তি। সদস্য হওয়ার আগে প্রত্যেককে বাইআত বা আনুগত্যের শপথ করতে হতো। তবে বাইআত নেওয়ার আগে সদস্যদের কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হতো।
আইজিপি খালিদ জানান, কাউন্টার টেররিজম বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে মালয়েশিয়া বিদেশি জঙ্গিদের জন্য কোনো রসদ সরবরাহ ও ট্রানজিট কেন্দ্র না হয়ে ওঠে। তিন ধাপে বড় ধরণের অভিযানের মাধ্যমে এই গোষ্ঠীটিকে ধ্বংস করা হয়েছে, যে অভিযান ২৮ এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে জোহর ও সেলাঙ্গরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গ্রুপটির প্রধান আছেন বলে জানান তিনি।
‘অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে চরমপন্থী মতবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে রূপ নিতে পারে।’ বলে মন্তব্য করেন আইজিপি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি, তারা মালয়েশিয়ায় কোনো হামলার পরিকল্পনা করছিল না, বরং তারা সদস্য নিয়োগ এবং আইএস-এর মতবাদ ও আদর্শ ছড়ানোর ওপরই বেশি মনোযোগী ছিল।’


