টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের হাতে পাঁচ বছরেরও কম সময় রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুতগতিতে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো ও এসডিজি’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ১১০তম। হাতে সময় খুব কম। তাই এখন দ্রুতগতিতে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়নের সুবিধা শুধু শহর বা সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, ফুটপাত ও রেলস্টেশনে বসবাসকারীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষও সমান গুরুত্ব পাবেন।
‘সবার জন্য একটি বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ কাউকে অবহেলা করবে না।
এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকারি কাজে লালফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের এক টেবিলে বসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, উচ্চ দক্ষতা অর্জন এবং পুনর্বাসনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের ফিজিওথেরাপি ও স্পিচ থেরাপির সুবিধা নিশ্চিত করতে মোবাইল ভেহিকেল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব সেবা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
জেলা-উপজেলায় সম্প্রসারিত হবে ডে-কেয়ার
ডে-কেয়ার সেবা শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতে কর্মরত নারীদের সন্তানদের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ডে-কেয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।
দক্ষ কেয়ারগিভার তৈরির পরিকল্পনা
কেয়ারগিভিং খাতকে দেশের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। শিশু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের জন্য আলাদা ধরনের কেয়ারগিভারের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
দক্ষ কেয়ারগিভার তৈরি করা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নারী ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। লাইভস্টক-পোল্ট্রি, হস্তশিল্প, বিউটিফিকেশন, টেইলারিং, মোবাইল ফোন মেরামত, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
প্রশিক্ষণের পর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সিড মানি দিয়ে প্রশিক্ষিতদের স্ব-কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘ফ্যামিলি কার্ডে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না’
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নির্বাচন করা হচ্ছে না দাবি করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এর লক্ষ্য সর্বজনীন সুবিধা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, এখানে কে কোন রাজনৈতিক দল করেন, তা বিবেচনা করা হয়নি। লক্ষ্য হচ্ছে সর্বজনীন সুবিধা নিশ্চিত করা।
ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ দেওয়ার ফলে এ কর্মসূচিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ থাকবে না বলেও দাবি করেন তিনি।


