মানিকগঞ্জকে একটি সমৃদ্ধ পর্যটন জেলায় রূপান্তর এবং পদ্মা, যমুনা নদী শাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মানিকগঞ্জ সার্কিট হাউজে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার পৃথিবী মানিকগঞ্জকে ঘিরে। মানিকগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সহযোগিতাই আমার শক্তি। আমি সরকারি দলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সরকার ও মানিকগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে কাজ করতে চাই। নির্বাচনী প্রচারের সময় জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ছিল, তা বাস্তবায়নই আমার প্রধান লক্ষ্য।’
‘মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমি যে কমিটমেন্ট করেছি, মানুষের পাশে থাকা, তাদের সুখে-দুঃখে অংশ নেওয়া, সেসব অঙ্গীকার অটুট রাখতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।
মানিকগঞ্জকে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম জানান, জেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে ঘিরে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়া হবে। বিশেষ করে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ও তেওতা জমিদার বাড়িসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে পর্যটনবান্ধব অবকাঠামোর আওতায় আনা হবে।
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্নত সেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা, মানসম্মত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলাই এ সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
এর পাশাপাশি পদ্মা নদী ও যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে নদী শাসনব্যবস্থা উন্নয়ন এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী।
আফরোজা খানম আরও বলেন, জেলার হজযাত্রী ও প্রবাসীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি টেকসই ও সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ খাতে বিদ্যমান সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পিপি অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহরর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে মন্ত্রী মানিকগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মানিকগঞ্জকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে চাই এবং মানিকগঞ্জকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।’


