২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের শতভাগ বই বিতরণ শেষ হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বাঁধাই শেষে শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
সোমবার এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান সাগর এ তথ্য জানান। বছরের শুরুর দিন প্রাথমিকের সব বই বিতরণ হলেও মাধ্যমিকের বই প্রকাশে বিলম্ব হয়।
আসাদুজ্জামান সাগর বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক শতভাগ মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী স্তরে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩টি বই রয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ৬ হাজার ২৬টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে।
এ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণে গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যবহৃত কাগজের মান পরীক্ষার জন্য এনসিটিবি দপ্তরে ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া, কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভির মাধ্যমে অনলাইন মনিটরিং এবং এনসিটিবি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সরেজমিনে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে বইয়ের ছাপার মান ও বাঁধাইয়ের উৎকর্ষ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে সময়মত বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছেন।
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবি সব স্তরের পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (সফটকপি) সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে। এনসিটিবির ওয়েবসাইট (www.nctb.gov.bd)-এ প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে।
গত ৫ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায় এবারই দ্রুততম সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শতভাগ বই সরবরাহ করতে মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লেগেছিল।


