আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে পরে আট দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকার প্রস্তাব এসেছে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি বৈঠকে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে নির্বাচন কমিশন(ইসি)।
সোমবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘এবার ভোটে ৫ দিন মাঠে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রাখার পরিকল্পনা ছিল ইসির। আজ বৈঠকে ৮ দিন রাখার প্রস্তাব এসেছে। ভোটের আগের তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে চারদিন মোতায়েনের প্রস্তাব এসেছে। এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।’
তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে মাঠে সেনাবাহিনী থাকবে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ। এছাড়া নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য। নিরাপত্তা রক্ষায় মাঠে আনসার সদস্য থাকবে ৬ লাখ।
নির্বাচনে ড্রোন ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে।’
বৈঠকে ভোট কেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্রের সংখ্যাগত হিসাব, নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকা তথা সমগ্র দেশের নিরাপত্তা এবং এসব সম্পর্কে একটা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি জানান, ‘অবৈধ অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে, বিদেশি সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
নির্বাচন নিয়ে কোন ঝুঁকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দেখছে কিনা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনের সময়সীমাটা হচ্ছে তফসিল ঘোষণা থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত। আমাদের আলোচনার পরিধি এটুকু ছিল। বাকিটুকু নিয়ে আলোচনার এই মুহূর্তে সুযোগ নেই, আমরা করিওনি। আমি তাদের ভিতরে উদ্বেগ দেখিনি। বরং দেখেছি যে তারা একটা ভালো ইলেকশন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
নির্বাচন করার মতো পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, অবশ্যই নির্বাচন করার মতো পরিবেশ আছে এবং সেটাই আরো সংহত করতে আজকের আলোচনা এবং এটা চলমান থাকবে।


