ঝিনাইদহের মহেশপুরে মতিয়ার রহমান মতি নামে এক মুদি দোকানিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
সোমবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাষানপোতা গ্রামের একটি আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত মোটরসাইকেলে পেছন দিক থেকে এসে দুই মোটরসাইকেল আরোহী মতিয়ার রহমান মতিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মতিয়ার রহমান মতি উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ ইব্রাহীম নামে একজনকে আটক করেছে। আটক ইব্রাহীম বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ মতির ছেলে হিছাব আলী জানান, তার পিতা কেস পার্টনার মকলেছুর রহমানের সঙ্গে ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মহেশপুরের ভৈরবা বাজারে মকলেছুর রহমানকে নামিয়ে দিয়ে একাই মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ভৈরবা বাজার থেকে অস্ত্রধারী দুই দুর্বৃত্ত মতির মোটরসাইকেলের পিছু নেয়। ভাষানপোতা গ্রামের মাঠ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
মহেশপুর থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান সাজু বলেন, ‘তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ মতিয়ার রহমান মতি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) করা চোরাচালান সংক্রান্ত মামলায় তিনি আসামি। সোমবার ওই মামলায় আদালতে হাজিরা ছিল বলেও জানা গেছে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহামুদা জানান, মতিয়ার রহমান মতি নামের একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
‘গুলিটি তার পিঠের পেছন দিক দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘মতিয়ার রহমান মতির পূর্বের হিস্টোরি সংগ্রহ করে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কারা তাকে গুলি করতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।’


