মাদারীপুর সদর উপজেলায় বিয়ের সাত মাস পর এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ার পর তার শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত ৯টার দিকে পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সাত মাস আগে কাইয়ুম বেপারীর সঙ্গে সাথী আক্তার নামে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের মাত্র তিন দিনের মাথায় স্বামী প্রবাসে চলে গেলে সাথী তার শ্বশুর গোলাম বেপারীর মানসিক নির্যাতন ও কুপ্রস্তাবের শিকার হন।
পরিবারের দাবি, কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণে রোববার সকালে সাথীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগের দিন সাথীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায় কাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৪০ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বশুর সাথীকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন, আর সাথী তা প্রত্যাখ্যান করছেন। এজন্যই তাকে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।

হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। নৌপথে থাকা কারণে ফায়ার সার্ভিস দেরিতে পৌঁছায়, তাই দোতলা ভবনসহ অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়।
স্থানীয় নাদিম হাওলাদার বলেন, ‘ভিডিও না থাকলে তারা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিত। অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁকফোকরে বের হতে না পারে।’
ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ আহাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিক্ষুব্ধদের আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


