এ যেন নিখুঁত এক সমাপ্তি। এমন এক সফরের যেখানে প্রতিপক্ষ শুধু নয়, প্রশ্ন ছিল নিজেদের প্রস্তুতির, সামর্থ্যের—আর সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল যেন অক্ষরে অক্ষরে। এএফসি নারী এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের শেষ ম্যাচে তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ঋতু-মনিকারা।
তবে এই ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছিল গ্রুপ সি’র শীর্ষস্থান। প্রথম ম্যাচে বাহরাইনকে উড়িয়ে দেওয়া এবং দ্বিতীয় ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা শক্তিশালী মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারানোয় কোয়ালিফিকেশন ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।
শেষ ম্যাচে এসে আর কিছু প্রমাণ করার ছিল না, কিন্তু দলটি থামার নাম নেয়নি। ম্যাচের ২০ মিনিটের মধ্যেই ৬ গোল! যেন এক ঝড়, যার মুখে দাঁড়িয়ে তুর্কমেনিস্তান শুধু তাকিয়েই থেকেছে।
মনিকা চাকমা: ‘সত্যিই মনে হচ্ছে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে’

বাংলাদেশের মিডফিল্ড ইঞ্জিন মনিকা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলতে যাচ্ছে—এটা আমাদের জন্য বিশাল এক অর্জন। শেষ ম্যাচে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালে যখন অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাবো, তখন সত্যিই মনে হবে স্বপ্ন ছুঁয়ে ফেলেছি। গর্ব হচ্ছে নিজের দেশের জন্য এমন কিছু করতে পেরে।’
আফিদা খন্দকার: ‘এটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন’

খেলার পর একগাল হাসিতে কাপতান আফিদা খন্দকার জানান, ‘আমি বরাবরই চেয়েছি সাফের গণ্ডি ছাড়িয়ে এশিয়ান কাপে খেলতে। এবার সেই স্বপ্ন সত্যি হলো। এটাই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। এখন লক্ষ্য অনূর্ধ্ব-২০ সাফে ভালো করা। এরপর সামনে কী আছে, সেদিকেই মনোযোগ থাকবে।’
কোচ পিটার বাটলার: ‘এই মেয়েরা পেশাদারিত্ব কীভাবে দেখাতে হয়, তা দেখিয়েছে’

দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘আমার জন্য সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না—এই ম্যাচে একদম নতুন একাদশ নামাবো, নাকি পুরো টুর্নামেন্ট শেষ করবো শক্তভাবে? শেষ পর্যন্ত আমি ভারসাম্য রেখেছি। প্রথমার্ধেই খেলা শেষ করে ফেলেছিল দল, তাই দ্বিতীয়ার্ধে কিছু পরিবর্তন এনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই জয়টা শুধু আজকের নয়, পুরো কোয়ালিফায়ারেই আমরা খুবই পেশাদার ছিলাম। দলের কাজের পরিবেশ দুর্দান্ত। তরুণ খেলোয়াড়রা দারুণভাবে চেষ্টা করছে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার জন্য। আমি গর্বিত যে, মেয়েরা কোচিং প্ল্যান অনুসরণ করেছে এবং দুর্দান্তভাবে সেটি মাঠে বাস্তবায়ন করেছে।’
বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে ২০২৬ সালের মার্চের দিকে, যখন প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে মূলপর্বে মাঠে নামবে দেশের লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। আর এই মঞ্চে ওঠার পথটা এতটা ঝকঝকে হবে, সেটা হয়তো কেউ ভাবেওনি।


