অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অন্তবর্তী সরকার অর্থনীতিকে মোটামুটি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে। সামনের চ্যালেঞ্জ আরও বড়।’
সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সংস্কার আমরা যা করেছি তা যথেষ্ট না। সামনের সরকারের জন্য তা সহায়ক হবে। আরও ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডেল করতে হবে চ্যালেঞ্জগুলো।’
নির্বাচিত সরকারের সময়ে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পেশাদার হওয়ার পরামর্শ দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের সময়ে চাপ আসবে। তাদের সরাসরি না বলা যাবে না। নেগোশিয়েট করে ক্ষমতায় যেতে হবে, তাদের অর্থনীতির নীতি বুঝাতে হবে, ব্যাংকিং আইন, অডিটের নর্মস দেখাতে হবে।’ এভাবে আলোচনা ও সমঝোতা করে ঋণ বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি।
ঋণ বিতরণে বড় ব্যবসায়ীদের চেয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরিতে তারা ভূমিকা রাখে। এজন্য তাদের ঋণ দিতে হবে বেশি। বড়দের ঋণে ঝুঁকিও বেশি।’
সোনালী ব্যাংকের নামের সঙ্গে এখন পিএলসি যোগ হয়েছে উল্লেখ করে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘এখন কর্পোরেট কাঠামোয় ব্যাংক চালানো দরকার যতটা পারা যায়। এমডি নিয়োগ ক্ষমতা বোর্ডকে দেওয়া দরকার। এমডিকে হায়ার অ্যান্ড ফায়ার করার ক্ষমতা বোর্ড পাক।’
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বোর্ডকে জবাবদিহির মধ্যে আনেন। তাদের পারফর্মেন্স দেখেন, তাদেরকে বাদ দেন, নিয়োগ দেন। সরকারি ব্যাংক হয়েও সোনালী ব্যাংক ভালো করছে।’
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, ‘চলতি বছরে খেলাপির হার কমিয়ে ১০-১২ শতাংশে নামবে। আগামী বছর তা সিঙ্গেল ডিজিটে চলে যাবে।
খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশে নামানোর পরই সোনালী ব্যাংক রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে মনোযোগ দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, দুটি বিদেশি শাখাসহ ১ হাজার ২৩৪টি শাখার সবচেয়ে বড় ব্যাংকটি ২০২৫ সালে সোানলী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা। যা ২০২৪ সাল থেকে ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকা বেশি।
ব্যাংকের এ অর্জন তুলে ধরে এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই সময়ে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।
ঋণ বিতরণ ২০২৪ সালের তুলনায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি যুক্ত হয়ে স্থিতি দাঁড়ায় ১ লাখ ৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকায়।


