চট্টগ্রাম সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় করা চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম এক ধাপ এগিয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
শুনানির শুরুতে কারাগারে থাকা অন্যতম আলোচিত আসামি চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্যতীত অন্য সকল আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় সশরীরে আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলহাজত থেকে অডিও-ভিজ্যুয়াল (ভার্চ্যুয়াল) ব্যবস্থায় আদালতে উপস্থিত করা হয়। আদালতের এজলাসে স্থাপিত এলইডি মনিটর ও অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহত আইনজীবীর বাবা ও মামলার বাদী জামাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হয়ে তার জবানবন্দি দেন। তার সাক্ষ্য দেওয়ার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো।
তবে জবানবন্দি শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী তাকে জেরা করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
বাদী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপণের চেষ্টা করছে। সরকারের কাছে আবেদন যেন দ্রুত বিচার হয়।’
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, ‘সারা দেশের মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দেখার অপেক্ষায় আছে। এদিন বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক। আমরা দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করা প্রায় ৫০ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করার জন্য সমন জারির আবেদন করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ নাগরিক, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী চিকিৎসক, আলামত জব্দকারী ও প্রেরণকারী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যবৃন্দ।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত প্রাঙ্গণে সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই স্পর্শকাতর মামলার রায় দ্রুত আসবে বলে আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করছেন।


