পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের দুই যুগ্ম-সমন্বয়ক মানবাধিকার কর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা, মতামত ও নানান জল্পনা-কল্পনা চলছে। এই পদত্যাগের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
তারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন অতিক্রম করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে দেশবাসীকে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
যুগ্ম-সমন্বয়কদ্বয় আরও বলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগ বিষয়ক ঘটনাবলী চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে নিয়ে দেশবাসীর মনে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিবৃতিতে দুই যুগ্ম সমন্বয়কারী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। সেই লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা খুবই জরুরি এবং একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করাটাও অত্যাবশ্যক।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে অ-সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’
যুগ্ম-সমন্বয়কদ্বয় দাবি করেন, সরকারকে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাবদ্ধ একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির অন্যতম পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে হবে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্ন কেবল একটি আঞ্চলিক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুজাতিক বাস্তবতা তথা বিএনপি ঘোষিত রেইনবো নেশন বিনির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক প্রশ্ন। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
যুগ্ম-সমন্বয়কদ্বয় আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার তাদের বাজনৈতিক প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রদর্শন করবে।
দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন দীপেন দেওয়ান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দীপেন। পরে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।


