তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মধ্যরাতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী।
নিহত সাম্য ছাত্রদল নেতা ও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগা নিয়ে তর্কের জেরে সাম্যকে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত মংগলবার রাত ১২টার দিকে পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাতে জখম করে।
তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে আসেন সহপাঠী মোহাম্মদ রাফি। তিনি জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় সাম্যকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত সাড়ে বারোটার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভিন্ন একটি সূত্র দাবি করেছে, ওই হত্যাকাণ্ডের সংগে ছাত্র শিবিরের কর্মীরা জড়িত। তবে হামলাকারীদের পরিচয় পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে জানতে পারেনি।
হাসপাতালে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্যার এফ রহমান হলে থাকতেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন সাম্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাফি জানান, মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অন্য আরেকটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় সাম্যের সাথে কথা কাটাকাটি হয় দুজনের। এর জেরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে আরও ৫-৭ জন তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত বারোটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।
ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা শাহবাগ থানা পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। হামলাকারীদের খুঁজতে রাতেই পুলিশের একাধিক টহল টিমকে মাঠে নেমেছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নিহত সাম্য আমাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ছাত্রনেতা। বিগত ফ্যাসিস্টের আমলে রাজপথে তার অনেক ভূমিকা ছিল। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল। আমরা আমাদের সহযোদ্ধা হত্যার বিচার দাবি করছি। যে বা যারাই খুনি হোক তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’


