মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। এসময় সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও ডজনখানেক।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
বুধবার আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি (ওয়াম) নিশ্চিত করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রিফা এলাকায় একটি খামারে ড্রোন প্রতিরোধের সময় ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
ফুজাইরাহ সরকার মিডিয়া অফিস জানায়, আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহাজ প্রতিহত করে এবং এর ধ্বংসাবশেষ আল রিফা এলাকার একটি খামারে পড়ে। নিহত বাংলাদেশি প্রবাসীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংসদে জানান, চলমান যুদ্ধে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং ইরান থেকে ১৮৬ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. তারেক, সালেহ আহমেদ, হবি মিয়া এবং মোহাম্মদ জায়েদ; আরেকজনের নাম এখনো জানা যায়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার ধ্বংসাবশেষে আঘাত পেয়ে মারা যান সিলেটের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ (৫৫)।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্চের শুরুতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী শ্রমিক মোহাম্মদ জায়েদ কুয়েতে মারা যান।
গত ২ মার্চ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর পাহাড় এলাকার বাসিন্দা তারেক (৪৮) বাহরাইনে নিহত হন। প্রায় ২৭ বছর ধরে সেখানে কাজ করে পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠাতেন তিনি। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে একটি জাহাজ কারখানায় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া ১৭ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা হবি মিয়া (৩৭) ইরাকে নিহত হন। গত এক দশক ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন তিনি। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার মৃত্যু হয়।


