প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যের আয়োজন ঘিরে কোনো ধরনের নতুন হামলা কিংবা সংঘাত সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে ইরান।
দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বৃহস্পতিবার এক হুঁশিয়ারিতে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ভুল হিসাব করলে তার কঠোর ও ভয়াবহ জবাব দেওয়া হবে।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে কাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেন, ‘ইরানের শত্রুরা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসন (ইসরায়েল), তোমরা কোনো “ভুল হিসাব” করো না। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর প্রতিশোধের কথা তোমাদের বিবেচনা করা উচিত।’
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের নেতৃত্ব বা জনগণের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেবে। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইঙ্গিত করেছিলেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি তাদের ‘নিশানায় আছেন’।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অতর্কিতে যৌথ হামলা চালালে পরিবারের বেশ কয়কজন সদস্য ও সঙ্গীদের সঙ্গে নিহত হন তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার রাষ্ট্রীয় জানাজা সামনে রেখে এরইমধ্যে দেশটিতে শোক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, তেহরান ও মাশহাদসহ কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় সাময়িকভাবে চলাচল সীমিত করা হবে।
আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম, ইরাক ও মাশহাদে খামেনির জানাজা এবং দাফন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা হবে। পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই তার জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী রাজধানী তেহরানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ৭ জুলাই ধর্মীয় নগরী কোমে বিশেষ শোক অনুষ্ঠান করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হবে বলে ইরানের কর্তৃপক্ষ আশা করছে। পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই তার জন্মশহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করেন।


