চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার উড়িরচরে তীব্র জ্বালানি সংকটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। জ্বালানির অভাবে কৃষিকাজ ও পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস উড়িরচরে। দ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষিনির্ভর। নৌপথই সেখানে যাতায়াতের একমাত্র ব্যবস্থা। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও নৌপথের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
দ্বীপের ভেতরে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য ডিজেলচালিত ট্রলি ব্যবহৃত হয়। কৃষিকাজে ট্রাক্টরের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। তবে সম্প্রতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং লাইসেন্সধারীদের সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণে উড়িরচরে জ্বালানি সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এর আগে, চট্টগ্রাম থেকে পদ্মা অয়েল কোম্পানির মাধ্যমে লাইসেন্সধারীদের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সেই ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যাদের কাছে লাইসেন্স রয়েছে, তারা উড়িরচরের জন্য জ্বালানি কিনতে তাদের লাইসেন্স দিচ্ছেন না।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার উড়িরচরের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস খান পয়েল লিখিত আবেদনের মাধ্যমে ডিসিকে জানান।
আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক আবেদনকারীর কাছ থেকে সরাসরি পরিস্থিতির বিস্তারিত শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এই সংকটের সমাধান হবে। ইউএনও ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জ্বালানি সরবহরাহের ব্যবস্থা করবেন। চরাঞ্চলের জনজীবন কৃষি যেন ব্যাহত নাহয় সেজন্য আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
আবেদনকারী ইউনুস খান পয়েল জানান, বিষয়টি জানানো মাত্র জেলা প্রশাসক ইউএনওকে নির্দেশ দেন। পরে ইউএনও কার্যালয় থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং উড়িরচরে জ্বালানি তেল পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়।


