সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এই ভাবনায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং অর্থের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার সকাল ১০টায় দেশজুড়ে একযোগে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এদিন রাজধানী ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হলো- বৃত্তির মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো এবং শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করা। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
‘শিক্ষার্থীরা যাতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্র পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমি নিজে আজকে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারা দেশের খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া সব রিপোর্টই ইতিবাচক বলে তারা জানিয়েছেন।’
‘যদিও কিছু শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎসাহিত করতে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেসব পদক্ষেপ এরইমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে সেগুলোও চালু থাকবে। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি তাদেরও কিছু চাহিদা রয়েছে যা সরকার আগামীতে আলোচনার মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করবে’, যোগ করেন ববি হাজ্জাজ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে, যার মধ্যে বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও বেশি উৎসাহিত হন।’
শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার হার ৯৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তি পরীক্ষা চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলবে।
এই বৃত্তি পরীক্ষা গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।


