ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার চেষ্টার প্রতিবাদে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৩৯ নাগরিক।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। হঠাৎ করে একটি খোড়া অজুহাত দেখিয়ে কারও সাথে কোন আলোচনা না করে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন। যা জনমনে গভীর ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের কথা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করেছিল। তা সংস্কার না করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্য সন্তানদের মধ্যে অন্যতম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের দায়িত্ব-জ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই মনগড়া যুক্তিতে ঝিনাইদহের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এ ধরনের কাজ স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে অসম্মান করার সামিল।
যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাস্কর্যটি যথাস্থানে পুন:স্থাপনের জন্য জোর দাবি জানানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন জায়গায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভাঙার যে সকল ঘটনা ঘটেছে সেসব সংস্কার ও পুন:স্থাপনের দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের মানবাধিকার কর্মী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, আইন ও সালিস কেন্দ্রের সভাপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তবারক হোসেন, লেখক রেহেনুমা আহমেদ, মানবাধিকার কর্মী মো: নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোভা আহমেদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও অধিকার কর্মী রোজিনা বেগম।
বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী পারভেজ হাসেম, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো সাদাব নুর, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতি কর্মী মিঠুন রাফসান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকার কর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা, অধিকার কর্মী হানা শামস আহমেদ, সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ।


