চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন এবং লোহাগাড়ার পুটিবিলা এলাকার বিএনপি কর্মী তারিকুল হকের একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে অডিওটি টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে আসে। কথোপকথনে এমপিকে লোহাগাড়া গেলে গুলির ইঙ্গিত, প্রশাসনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা এবং বিভিন্ন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। তবে অডিওটির বিষয়ে আরমান ও তারিকুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অডিওটি সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিনের বলে নিশ্চিত করেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
ফোনালাপের একপর্যায়ে লোহাগাড়ায় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর আগমন প্রসঙ্গে তারিকুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘এমপি এলে এমপির পায়ে একটা দিব, একটা মেরে বলব..এমপিকে বলতে হবে এখানে কেন আসছে? এখানে এমপি হচ্ছে আরমান সাহেব। কেন আসবে এমপি এখানে, তাকে লোহাগাড়ায় আসতে নিষেধ করবেন। আমরা চিনি এখানে এমপি হচ্ছে আরমান সাহেব।’
জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, ‘এমপিকে তো বারবার করে নিষেধ করেছি লোহাগাড়ায় না যেতে।’
অডিওর আরেক অংশে প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়েও আলোচনা শোনা যায়। সেখানে সার্কেল, থানা ও ইউএনওকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আর্থিক সমঝোতার কথাও উঠে আসে।
প্রশাসন ও পুলিশের নাম ব্যবহার করে অপপ্রচারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘কল রেকর্ডটা তো আমাদের না। এখন এটা অরিজিনাল কিনা সেটাও জানি না। এখানে দুজন, একটা আরমান আরেকটা তারিক। তারিককে আমি চিনি না, আরমানকে চিনি যেহেতু তিনি এমপি সাহেবের পিএস।’
নিজের ও প্রশাসনের নাম জড়িয়ে টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে দেখি, একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করার পরিকল্পনা করছি। তারা এ বিষয়ে অনেক কিছু করতেছে, এটা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। আমার যেটুকু পার্ট আসছে, সেটুকুর জন্য আমি করব। ইউএনও চাইলে ইউএনও করবে, থানা চাইলে থানা করবে। ‘
অডিওটি ফাঁস হওয়ার পর থেকে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।


