পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রোববারও ট্রেনে কর্মমুখী মানুষের ঢাকায় ফেরার ঢল দেখা গেছে। ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
রোববার সকালে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকাগামী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের প্রতিটি বগি যাত্রীতে ঠাসা। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শুধু বগির ভেতরেই নয়, ট্রেনের নামাজের স্থান, ইঞ্জিনের পাশ, এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়ারকারেও যাত্রী উঠতে দেখা গেছে। দুই ট্রেনের সংযোগস্থল (জয়েন্ট) দখল করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের বসতে দেখা যায়। ছাদেও ছিল উপচেপড়া ভিড়।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকাগামী মহুয়া ও বলাকা কমিউটার ট্রেনেও। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনগুলোর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এতে বাড়ছে দুর্ভোগ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুমতেহিনা ফেরদৌসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার বলে ট্রেন লোকসানে চলছে, কিন্তু বাস্তবে টিকেট পাওয়া যায় না, বসার জায়গা তো দূরের কথা—দাঁড়িয়েও ঠিকমতো যাওয়া যায় না। টিকেট কেটেও দাঁড়িয়ে যেতে হচ্ছে।’
গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের মুখুরিয়া গ্রামের আয়েশা আক্তার (৪০) বলেন, ‘স্বামী-সন্তান নিয়ে ঈদে বাড়ি এসেছিলাম। আসার সময়ই দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে। এখন ফেরার সময় ট্রেনে টিকেটই পাচ্ছি না। শুধু উন্নয়নের কথা শুনি, গরিব মানুষের কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ে না।’

তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরেক যাত্রী আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ছাদে ওঠা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা জানি। কিন্তু কী করব? জীবনের ঝুঁকি নিয়েই উঠতে হচ্ছে, কারণ অন্য কোনো উপায় নেই।’
এ বিষয়ে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বলেন, ‘ঈদ শেষে হঠাৎ করে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। আমরা অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যাত্রীদের ছাদে না ওঠার জন্য বারবার মাইকিং করা হচ্ছে, কিন্তু অনেকে তা মানছেন না।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের ময়মনসিংহ অঞ্চলের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ঈদ উপলক্ষে যাত্রীচাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের চেষ্টা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদে ভ্রমণের জন্য সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
ঈদ পরবর্তী এই যাত্রীচাপ সামাল দিতে আরও অতিরিক্ত বগি সংযোজন ও বিশেষ ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। অন্যথায় এমন অনিরাপদ যাত্রা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


