আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও দল বা জোটকে সমর্থন দেবে না বলে জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। কোনো দলের সঙ্গে জোট করার পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে তারা।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সংগঠনটি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিসহ ৩ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনটি করে হেফাজতে ইসলাম।
এসময় সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। হেফাজতে দলীয় রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে কোনো দলের সঙ্গে জোট করারও আমাদের পরিকল্পনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের ভেতরে যারা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাদের কোনও রাজনৈতিক কর্মের দায় হেফাজতে ইসলাম নেবে না। জামায়াতে ইসলামী কোনও রাজনৈতিক দল না— হেফাজতের আমিরের এমন মন্তব্য সংগঠনের নয়, এটা তার ব্যক্তিগত মন্তব্য।’
এছাড়াও দেশের কোনও মাজারে হামলা ও আক্রমণ হেফাজতে ইসলাম সমর্থন করে না বলেও জানান হেফাজত নেতারা। এর আগে, হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মদ সাজিদুর রহমানের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল এবং ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালা জারি করতে হবে। সব ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে কঠোর আইন করতে হবে। ৫ মে শাপলা গণহত্যা দিবস ঘোষণা করতে হবে। জুলাই সনদে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ থাকতে হবে।
গত ৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শানে রেসালত সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির আহম্মদ আলী কাশেমী, যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীবসহ অন্যান্য নেতারা।


