ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলা, লেবানন-ইসরায়েল চলমান সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের পাল্টা হামলার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিমান খাতে। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এরইমধ্যে যাত্রীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ বা বর্ধিত ভাড়া নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের দুই বৃহত্তম বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো।
ফলে এসব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিমান সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, একটি এয়ারলাইনসের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়।
এই বাড়তি খরচ সামাল দিতে এয়ার ইন্ডিয়া টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

ভারতের আরেক শীর্ষ বিমান সংস্থা ইন্ডিগোও একই পথে হাঁটছে। শুক্রবার সংস্থাটি ঘোষণা দিয়েছে, জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারাও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সারচার্জ নেবে।
ইন্ডিগোর ক্ষেত্রে টিকিটের দাম বাড়তে পারে প্রায় ৩০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে বিমান পরিবহন খাতে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়া আরও বাড়তে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।


