রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার
আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার
Advertisement
Advertisement

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল রোববার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মামলা দায়েরের ১৮ দিনের মাথায় সেটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিচারের দীর্ঘসূত্রতার বিপরীতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে। ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যার এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার শিকার হয় শিশু রামিসা। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম এবং জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরদিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। তদন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করে পুলিশ ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। একই দিনে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং মামলাটি বিচারের জন্য পাঠায়।

গত ১ জুন আদালত দুই আসামি, সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। পরদিনই অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। আদালতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় বহু আলোচিত মামলার নিষ্পত্তি বছরের পর বছর ঝুলে থাকার নজির রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত অগ্রগতি বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, দ্রুত বিচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগততা এবং আইনি মানদণ্ডের পূর্ণ অনুসরণও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad