বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাত মিলিয়েছে জাপানভিত্তিক ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মল্টেন করপোরেশন–এর সঙ্গে। তিন বছরের এই চুক্তিতে মল্টেন এখন থেকে বাফুফের আধিকারিক ফুটবল পার্টনার।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর বাফুফে ২,০০০ ফুটবল কিনবে ছাড়মূল্যে, আর মল্টেন দেবে আরও ২,০০০ ফুটবল বিনামূল্যে। এতে প্রতি বছর অন্তত ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে বাফুফের, যা ব্যবহার হবে জাতীয় দল ও কারিগরি কমিটির অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায়।
এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) গতকাল বাফুফে ভবনে স্বাক্ষর করেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম ও মল্টেন এশিয়ান গ্রুপের প্রধান তাকাশি ওজাকি। বাফুফের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রস্তুতকারকের সঙ্গে এভাবে চুক্তি হলো।
২০২৩ সালেই বাফুফে মল্টেনের কাছ থেকে ৩,১৩০টি ফুটবল কিনেছে, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই নতুন চুক্তি অর্থনৈতিক বোঝা কমানোর পাশাপাশি পেশাদার ব্যবস্থাপনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল দেশের ফুটবল প্রশাসনকে।
“বাংলাদেশ ফুটবলকে সহযোগিতা করতে এসেছি”—ওজাকি
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মল্টেনের প্রতিনিধি ওজাকি বলেন, “আমি খুব খুশি, কারণ ফাহাদ করিমের সঙ্গে বহু আলোচনার পর অবশেষে আমি আজ এখানে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে সহায়তা করতে এসেছি যাতে তারা জাতীয় দলকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।”
ফাহাদ করিম জানান, সাধারণত এএফসি’র অনুদানের মাধ্যমেই ফুটবল কেনে বাফুফে, আর এই চুক্তি এখন সেই প্রক্রিয়াকে করবে আরও দক্ষ এবং লাভজনক। তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি—দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আরও স্পনসরশিপ আনা এবং বাংলাদেশের ফুটবলের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়ানো।”
মল্টেনের সঙ্গে এই চুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন বাফুফে এর আগেই দেশীয় ব্র্যান্ড দৌড়-কে জাতীয় দলের কিট স্পনসর হিসেবে যুক্ত করেছে। এসব উদ্যোগ দেখায়, তারা স্পনসরশিপে এখন নিচ্ছে দূরদর্শী ও কৌশলগত পন্থা।
বাংলাদেশ ফুটবল মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও যে এগিয়ে যাচ্ছে, এই চুক্তি সেটাই প্রমাণ করে। মল্টেনের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কেবল বল নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে গড়ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।


