বাংলাদেশ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অস্কারের ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে ছবি পাঠাচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) অধীনে গঠিত অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে দেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য ‘বাড়ির নাম শাহানা’-কে বেছে নিয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণার পরপরই চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এ বছর পাঁচটি ছবি জমা পড়েছিল— ‘সাবা’, ‘বাড়ির নাম শাহানা’, ‘নকশি কাঁথার জমিন’, ‘প্রিয় মালতী’ এবং ‘ময়না’।
‘প্রিয় মালতী’র প্রযোজক আদনান আল রাজীব এবং ‘ময়না’র পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম মেঘ প্রকাশ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজীব ফেসবুকে লেখেন, ‘যদি লক্ষ্য হয় বাংলাদেশকে অস্কারে শক্তভাবে উপস্থাপন করা, তবে ‘সাবা’ নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উপযুক্ত হতো। কমিটির কাজ আসল উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটায়নি।’
একই মত প্রকাশ করেন আরও অনেকে। চলচ্চিত্র নির্মাতা আবু শাহেদ ইমন মনে করেন, সাবা—যেটি টরন্টো, বুসান ও রেড সি সহ আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং স্পাইক লির প্রশংসা পেয়েছে, পাশাপাশি ভ্যারাইটি, হলিউড রিপোর্টার ও স্ক্রিন ডেইলি-তে স্থান পেয়েছে— সেটি ঠিকঠাক নির্বাচন হতো।’
চলচ্চিত্রকার ও শিক্ষক রজিবুল হোসেন অভিযোগ করেন, এখানে লবিং এবং ভুল মূল্যায়ন হয়েছে। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সিনেমা আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা প্রতি বছর একই ভুল করি।’
মঞ্জুরুল ইসলাম মেঘ স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জুরি সদস্যরা আসলেই কতটা যোগ্য ছিলেন? কোন ছবিটা সেরা তা নিয়ে বিতর্কের আগে আমাদের দেখা উচিত জুরি বোর্ড কীভাবে গঠিত হয়েছিল।’
এই নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অন্য সদস্যরা হলেন চলচ্চিত্র সমালোচক সাজ্জাদ শরীফ, চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান, প্রযোজক শাহরিন আখতার সুমি, পরিচালক শহীন দিল-রিয়াজ এবং অধ্যাপক এস এম ইমরান হোসেন।
ড. জহিরুল ইসলাম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘যারা আপত্তি তুলেছেন, তারা কি পাঁচটি ছবিই দেখেছেন? পাঁচটির মধ্যে চারটি ছবি সমানভাবে যোগ্য ছিল। কিন্তু যেহেতু মাত্র একটি ছবি পাঠানো যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল।’
‘বাড়ির নাম শাহানা’র প্রযোজক আরিফুর রহমান সরাসরি সমালোচনার জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আগে যখন কেবল একটি ছবি জমা পড়ত তখন কোনো বিতর্ক হতো না। এবার একাধিক ছবি প্রতিযোগিতায় থাকায় ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুধু আমাদের ছবি নয়, যেকোনো ছবিই নির্বাচিত হলে আমি খুশি হতাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রযোজকরা আগে জুরি সদস্যদের নাম জানতেন না। প্রেস কনফারেন্সে তাদের নাম ঘোষণার পর আমরা নিশ্চিত হই, তারা যোগ্য ছবিটিই নির্বাচন করবেন।’


