নেপালের ‘জেন জি’ বিক্ষোভের জেরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ভুলে এক হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর নিরাপত্তার প্রশ্নে মতৈক্যে পৌঁছেছেন দুজনেই।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ও মোদীর বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালের ভারতে বিধানসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে। তবে প্রতিবেশী দেশ নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে মুহূর্তেই।
নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর শান্ত হতে শুরু করেছে দেশটির উত্তপ্ত পরিবেশ। ঘরে ফিরে কর্মমুখী হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবুও নেপাল-ভারত সীমান্তে সতর্কতা কমায়নি বিজেপি সরকার। গত সপ্তাহে নেপালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পর থেকেই নজরদারি জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
নেপালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক করিডোর’। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পটে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ওই করিডোর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এগুলি জাতীয় স্বার্থের বিষয়। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা এক।’ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মমতার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ও বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়মিত প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ প্রধান রাজীব কুমার গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। রাজ্যের মুখ্যসচিবও নিয়মিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, কাঠমান্ডুর বাজারে চীনা মুদ্রা সহজলভ্য ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেছে। এতে নেপালে চীনা প্রভাব বাড়ছে বলে নতুন হুমকির শঙ্কা জানিয়েছেন ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে এসসিও সম্মেলনের পর দিল্লি-বেইজিং সম্পর্ক কিছুটা ইতিবাচক হলেও, সতর্ক অবস্থানে আছে গোয়েন্দারা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নেপাল সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ বন্ধ করে দেয়, যা দেশটির জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে একের পর এক প্রতিবাদ এবং সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, বিশেষত তারা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে একত্রিত হয়েছে।
সহিংস এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের পর শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা নিহত ৭২ জনকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার নতুন দাবি তুলেছে।


