নেপালে জেন-জি বিক্ষোভের মুখে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কি দায়িত্ব গ্রহণ করলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি। বিক্ষোভকারী জেন-জিদের দাবি, অন্তর্বর্তী কার্কির সরকারও পুরনো ব্যবস্থার অংশ। এ সরকার তাদের দাবি-দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে ব্যর্থ।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা কার্কি সরকারের বিরোধিতা করে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে। তারা দাবি করছে, নতুন সরকারও আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ। তাদরে মাধ্যমে দেশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তারা এটি একটি ন্যায়সংগত আন্দোলন হিসেবে দেখছে।

আগামী নির্বাচনের আগে নেপালের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নেপাল সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ বন্ধ করে দেয়, যা জেন-জি’দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে একের পর এক প্রতিবাদ এবং সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, বিশেষত তারা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে একত্রিত হয়েছে।
সহিংস এ বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহতর সংখ্যা দু’হাজারেরও বেশি।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের পর শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা নিহত ৭২ জনকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার নতুন দাবি তুলেছে।
এদিকে সুশীলা কার্কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সরকার জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জনরোষ হ্রাসে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে নেপালের ভবিষ্যৎ পড়বে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মুখে।


