জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সুষম ও প্রাকৃতিক খাদ্যগ্রহণের ওপর বিশ্বজুড়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নির্দেশিকায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির উৎস হিসেবে পরিচিত প্রাকৃতিক মধু, কাজু বাদাম ও মিষ্টি ভুট্টার মতো পুষ্টিকর খাবারগুলোর ওপর এবার শুল্ক ও করের বড় বোঝা চাপানো হয়েছে। ফলে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় এসব প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার কেনা মধ্যবিত্তের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বাজেট নির্দেশিকা অনুযায়ী, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত বেশ কয়েকটি সুপরিচিত খাদ্যপণ্যের ওপর বিভিন্ন স্তরে কর বাড়ানো হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্যাক করা মধুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে প্যাক করা ‘প্রাকৃতিক মধু’ র ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা আগে শূন্য ছিল। ফলে বাজারে ব্র্যান্ডেড মধুর দাম কেজিপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডায়েট ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকায় বহুল ব্যবহৃত কাজু বাদামের আমদানিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের কর বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট নির্দেশিকা অনুযায়ী, খোসাযুক্ত কাজু বাদামের ওপর আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে খোসাছাড়া কাজু বাদামের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ আমদানি শুল্কও বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কাজু বাদামের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করা হয়েছে, যেখানে আগে এ পণ্যের ওপর ভ্যাটের হার ছিল শূন্য। ফলে আমদানি পর্যায়ে করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে কাজু বাদামের দাম বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় এতখানি বাড়ানো এবং সেই সঙ্গে নতুন করে ভ্যাট যুক্ত করায় বাজারে কাজু বাদাম সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ ‘বিলাসদ্রব্যে’ পরিণত হবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকরা।
শিশুদের প্রিয় এবং খাদ্যমানের দিক থেকে অত্যন্ত পুষ্টিকর হিসেবে পরিচিত ‘মিষ্টি ভুট্টা’র ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, যা আগে প্রযোজ্য ছিল না। এর ফলে প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি ভুট্টার দামও বাজারে সাধারণ ক্রেতার পকেটে টান ফেলবে।


