সরকার কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, যান্ত্রিকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি ব্যবহারের কথা বললেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এবারের বাজেটে কৃষকের ব্যবহৃত চারাগাছ, কৃষিযন্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস সরঞ্জামের ওপর ব্যাপকভাবে শুল্ক ও ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ঘোষিত নীতির সাথে শুল্ক কাঠামোর এই বৈপরীত্যের ফলে দেশের কৃষি খাত ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে বড় ধরনের আর্থিক বাধা তৈরি হতে পারে।
বাজেট নির্দেশিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রত্যক্ষভাবে কৃষিকাজ এবং পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে।
চারাগাছ ও নার্সারি খাতে ধাক্কা
কৃষি সম্প্রসারণ ও বনায়নের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো চারা ও কলম। কিন্তু নতুন বাজেটে শিকড়হীন কাটিং এবং কলমের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে একলাফে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকার গাছ ও চারা (গোলাপ, রোডোডেনড্রন) আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে নার্সারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষক এবং বাগান উৎসাহীদের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নতুন ভ্যাটের বোঝা
কৃষিতে শ্রমিক সংকট কাটাতে এবং উৎপাদন বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণে জোর দেওয়া হলেও বাজেটে কৃষি ট্র্যাক্টরের টায়ারের ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে, যা আগে শূন্য ছিল। ট্র্যাক্টরের মতো অত্যাবশ্যকীয় কৃষিযন্ত্রের টায়ারের ওপর এই নতুন ভ্যাট কৃষকের জমি চাষের খরচ বাড়িয়ে দেবে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে ফসল উৎপাদনের খরচের ওপর।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে উল্টোরথ
গ্রামাঞ্চলে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয় বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত ডাইজেস্টারের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে একধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, শুল্কের এই বিশাল লম্ফ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রসারের পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে সরকার কৃষি খাতে প্রণোদনা ও পরিবেশ রক্ষার কথা বলছে, অন্যদিকে এসব খাতের অত্যাবশ্যকীয় উপকরণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও দর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগে কৃষকের স্বার্থ ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে এসব পণ্যের ওপর থেকে বর্ধিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


