বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জার্মান-আমেরিকান ট্যাকটিশিয়ান থমাস ডুলি। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের জল্পনা-কল্পনা ও নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেছেন তিনি। ডুলির আগমনের কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের কোচ নিয়োগের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
বাফুফের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘আমরা জার্মান-আমেরিকান ট্যাকটিশিয়ান থমাস ডুলিকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিতে পেরে আশাবাদী। ৪৩ বছরের সাজানগোছানো ক্যারিয়ারে তিনি বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় মঞ্চে কাজ করেছেন। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে তিনি দলটির নেতৃত্বও দিয়েছেন।’
বাফুফের ন্যাশনাল টিম কমিটির আলোচনায় ক্রিস কোলম্যানের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা গেলেও ফেডারেশনের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গ্রহণ করেছেন, যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ন্যাশনাল টিম কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানানো হয়। এর আগে গতকাল বাফুফে বিদায়ী কোচ হাভিয়ের কাবেরার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী বার্তা বিনিময় করে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বাফুফে সভাপতি আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরুর প্রথম দিন থেকেই নতুন কোচ দলের সঙ্গে থাকবেন। আগামীকাল ২৪ মে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হতে যাচ্ছে, তার আগেই ডুলির আগমন সেই লক্ষ্যেরই অংশ।
৬৪ বছর বয়সী ডুলি খেলোয়াড় হিসেবে বুন্দেসলিগা ও উয়েফা কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। কোচিং ক্যারিয়ারে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জার্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ফিলিপাইন জাতীয় দলকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নিয়ে যাওয়া এবং দেশটিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সর্বোচ্চ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। সর্বশেষ তিনি গায়ানার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানে দায়িত্বরত অবস্থায় ৪ ম্যাচের ৪টিতেই জয় পায় তার দল এবং সবশেষ ১২ মে পদত্যাগ করেন তিনি। বাফুফের মতে, ডুলি তৃণমূল থেকে দল গড়তে দক্ষ এবং এশীয় ফুটবলের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তার গভীর ধারণা রয়েছে।
এদিকে ডুলির নিয়োগ নিয়ে সমর্থক ও খেলোয়াড়দের একাংশের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তার আগমনের আগে বাফুফে ভবনের সামনে টানা দুই দিন বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। ডুলির ঢাকায় পৌঁছানোর দিনেও প্রতিবাদ চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অবশ্য বাফুফে এসব বিক্ষোভ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। আজ ঢাকায় পৌঁছানোর পর ডুলি একটি স্থানীয় ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন বাফুফে কর্তৃপক্ষ। হামজা চৌধুরী, শমিত শোমের মতো প্রবাসী তারকা এবং উদীয়মান লোকাল ট্যালেন্ট নিয়ে গড়া এই দলকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় জয়ী হিসেবে গড়ে তোলাই এখন ডুলির প্রধান চ্যালেঞ্জ।


