দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামার ঠিক আগমুহূর্তে বড় এক ধাক্কা খেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে বাদ পড়েছেন এই সময়ে বিশ্বের সবচাইতে দ্রুতগতির বোলার নাহিদ রানা। গত জিম্বাবুয়ে সফরে পাওয়া চোটের কারণে অন্তত দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে যেখানে গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করার কথা ছিল, সেখানে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করা নাহিদের না থাকা দলের জন্য অনেক বড় এক ক্ষতি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের মূল শক্তিই হলো তার তোলপাড় করা গতি। গত বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে প্রথম মাঠে নামেন তিনি। তবে পাকিস্তান সফরে গিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে পাকিস্তানের ব্যাটারদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
গড়ে ঘণ্টায় ১৪১ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার গতিতে বল করেন নাহিদ রানা। মাঝে মাঝেই গতি ছাড়িয়ে যায় ১৫০ কিলোমিটার।
এই বছরে দেশের হয়ে সব মিলিয়ে ৪৪টি উইকেট নিয়ে দারুণ ফর্মে ছিলেন নাহিদ। গতির সাথে বাউন্স মিলিয়ে বিশ্বসেরা ব্যাটারদেরও অস্বস্তিতে ফেলার দারুণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন এই তরুণ।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট লড়াইয়ের গল্প
দুই দেশের টেস্ট ক্রিকেট খেলার ইতিহাস বেশ পুরোনো হলেও ম্যাচ হয়েছে খুব কম। ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ, তবে সেবার হার দেখতে হয়। এরপর ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ফতুল্লায় দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় টাইগাররা। অবশেষে ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে হোম অব ক্রিকেটে সাকিব ও তাইজুলের স্পিন জাদুতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় দল। ২৩ বছর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
নাহিদকে ছাড়া যতটা কঠিন হবে লড়াই
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে লড়াই করাটা সবসময়ই কঠিন। আর সেই লড়াইয়ে নাহিদ না থাকা মানে দলের মূল ধারালো অস্ত্রটাই হারিয়ে ফেলা। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে তাঁর বাড়তি গতি আর বাউন্স প্রতিপক্ষের জন্য দারুণ আতঙ্কের কারণ হতে পারত। নাহিদ না থাকায় এখন সব চাপ গিয়ে পড়বে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদদের কাঁধে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটারদের সামলাতে হলে এখন নিখুঁত লাইন-লেংথ আর বাড়তি বুদ্ধিমত্তা নিয়েই বল করতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের।


