বৈষম্যের শিকার অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষকরা। কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে কর্মসূচি শুরু হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক শিক্ষক এতে অংশ নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের ভাষ্য, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তী গেজেটে প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় বাদ পড়ে। ১ দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। গত ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কনসালটেশন কমিটি বাদ পড়া বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। সেই সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতেই বর্তমান আন্দোলন চলছে।
আন্দোলনে অংশ নিয়ে শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নির্যাতিত ও অবহেলিত। কেন রাজপথে নির্যাতনের শিকার হব? অনতিবিলম্বে স্কুলগুলো জাতীয়করণ করে শিক্ষাদানের সুযোগ দিন। আমাদের জীবন অত্যন্ত নিম্নমানের হয়ে গেছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। পরিবার নিয়ে একটু ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে চাই।’
আরেক শিক্ষক ওদুদ হোসাইন বলেন, ‘১৪ বছর যাবত আন্দোলন করছি। কোনো ফল আসছে না। চাকরি আছে কিন্তু বেতন নাই। নির্বাচনের পূর্বে সরকারের দলীয় নেতারা আশ্বাস দিয়েছিলেন, প্রেস ক্লাবে আসতে হবে না। আমরা শুধু একটা জাতীয়করণের প্রজ্ঞাপন চাই।’
দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে আগত শিক্ষিকা রুমা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি একটাই। সরকারকে অতি দ্রুত স্কুলগুলো জাতীয়করণ করতে হবে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি চলবে।’
নেত্রকোণা থেকে আসা শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘ঢাকা শহরের একজন রিকশাচালকের চাইতে আমাদের মান-সম্মান নিচে পড়ে গেছে। পরিবারের অভাব-অনটন মেটাতে পারছি না। প্রেস ক্লাব থেকে আন্দোলন করে গেলে সবাই স্কুলের খবর জানতে চায়। তখন মাথা নিচু করে থাকতে হয়। সমাজে বলতে পারি না আমি একজন শিক্ষক। আমরা এখন জীবন্ত মরা হয়ে আছি।’
এর আগে ২০১৩ সালের মে মাসে প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় বাদ পড়ে। ২০১৮ সালে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা ১৮ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ২০১৯ সালে টানা ৫৬ দিন আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়েও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা।


