আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জোটটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইওএম)-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ওই পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকাসহ সারাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন কাজ শুরু করে।
ভোটগ্রহণের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডসহ ইইউ জোটের বাইরের কয়েকটি দেশের পর্যবেক্ষকরাও এই মিশনে যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন প্রায় ২০০ জন ইইউ পর্যবেক্ষক মাঠে কাজ করবেন।
পর্যবেক্ষকরা বড় শহর, মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকার নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। এর পাশাপাশি তারা সুশীল সামাজিক সংগঠন, নাগরিক পর্যবেক্ষক দল, যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ মূল্যায়ন করবেন।
শনিবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক ব্রিফিংয়ে ইইউ ইওএম-এর উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, ‘ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল এবং ইইউ সদস্যরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনীতিকদের উপস্থিতি এই মিশনের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। ভোটের দিন ভোর থেকে শেষ ব্যালট গণনা পর্যন্ত আমরা পূর্ণ শক্তিতে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ দিক মূল্যায়নের জন্য ইইউ দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রীতি অনুযায়ী আগেভাগেই পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া। এতে মিশন আগেভাগে শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় মাঠে পর্যবেক্ষক পাঠানো হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সব প্রাসঙ্গিক উপাদান পর্যবেক্ষণ করা হয়।’
মিশনের তথ্য অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকরা নির্দিষ্ট আসন ও জেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সাপ্তাহিক বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
ইন্তা লাসে আরও বলেন, ‘এই প্রতিবেদনগুলো ঢাকায় আমাদের কোর টিমের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে বিশ্লেষকরা সব তথ্য একত্র করে মূল্যায়ন করবেন।’
সংগৃহীত তথ্য সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করে নির্বাচনের দুই দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে জাতীয় আইন ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।
মিশনের সব সদস্যদের নিরপেক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো হস্তক্ষেপ না করে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে বলেন ইন্তা লাসে। তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রিত, হস্তক্ষেপের জন্য নয়। আমরা এই ম্যান্ডেট কঠোরভাবে মেনে চলব।’
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা যেকোনো ঘটনা নথিবদ্ধ করে ঢাকার কোর টিমে রিপোর্ট করবেন। পরে কোর টিম বিশ্লেষণ করে দেখবে, এসব ঘটনা সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং সেগুলো প্রাথমিক বিবৃতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ইইউ ইওএমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন লাসে। তিনি বলেন, ‘মাঠ থেকে পাওয়া সব প্রতিবেদন একত্র করে আমরা মূল্যায়ন করব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করেছে বা করেনি। আমাদের পর্যবেক্ষণ প্রাথমিক বিবৃতিতে প্রতিফলিত হবে।’
পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঢাকায় অবস্থানরত একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তার দিকে সর্বাধিক নজর দিতে হবে। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, স্থানীয় নাগরিক পর্যবেক্ষক দল এবং ভোটাররা পুরো নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপদে থাকবেন।’
নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে ইন্তা লাসে বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। ২০২৪ সালে কী ঘটেছিল এবং তা দেশ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন এনেছে। আমদেরকে তা মনে রাখতে হবে।’
‘তবে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, তা আমাদের দেখতে হবে এবং নির্বাচনের দুই দিন পর একটি পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত,’ যোগ করেন তিনি।


