আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার সকালে সংলাপের প্রথম দিনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ সংলাপ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইসি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নানা নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সিইসি নাসির উদ্দিন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদে নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া নির্বাচন আইন ও বিধি (আরপিও) সংশোধন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের ব্যবস্থাসহ ভোট আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি আরও বলেন, ‘আগে নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নিজেরাই ভোট দিতে পারতেন না। এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’
বৈঠকে সিইসির পাশাপাশি চার নির্বাচন কমিশনার—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ইসির ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, সংলাপে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, নারী সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক সংস্থা, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও জুলাই মাসের আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এক থেকে দেড় মাস ধরে চলবে এ মতবিনিময়।
তারই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনের আলোচনায় অন্তত ৩০ জন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আমন্ত্রিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, দৃকের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাংবাদিক সোহরাব হাসান, মানবাধিকারকর্মী রানি ইয়ান ইয়ানসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই মধ্যেই ভোট হতে পারে। কর্মকর্তারা জানান, ভোটের দিনের অন্তত দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। সবার মতামত ও সহযোগিতা নিয়েই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তারা।


