আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি হতাশ নন। তবে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় কিছুটা শঙ্কা রয়ে গেছে।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে এক সেমিনারে মেয়র এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা: সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব।
ডা. শাহাদাত হোসেন বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বর্ষায় বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ বের হতে পারত না। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। মুরাদপুর, মির্জাপুর ও চকবাজারের মানুষ গত বছর আগের মতো কষ্ট পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
নগরবাসীর সেবায় কোনো আপস করবেন না জানিয়ে মেয়র বলেন, নালার ওপর গড়ে ওঠা বহদ্দারহাটের একটি বড় মার্কেট তিনি ভেঙে দিয়েছেন। ওই মার্কেট থেকে বছরে ২০ লাখ টাকা ভাড়া আসত। সেটি অপসারণ করার কারণেই এখন বহদ্দারহাটে আগের মতো পানি জমে না।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এখন আর নির্দিষ্ট ছয়টি ঋতু দেখা যায় না। শরৎ ও হেমন্তকালও এখন বর্ষার কবলে চলে গেছে। গত বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। তাই এবারও জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে তারা কাজ করছেন।
আগের প্রশাসনের সমালোচনা করে মেয়র বলেন, অতীতে ৬ থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা চুরির উদ্দেশ্যে সিটি কর্পোরেশনকে এড়িয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পরে সক্ষমতা না থাকায় তারা সেনাবাহিনী ভাড়া করে কাজ করিয়েছে। সিডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যানের সততার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নতুন চেয়ারম্যান অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে সচেতন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে খাল-নালা দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সাথে নালায় ময়লা না ফেলার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।
সেমিনার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আল আমিন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আয়েশা খানম ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. মনজুরুল কিবরিয়া।
অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। খালের সীমানা নির্ধারণ না করে বরং তা সংকুচিত করে দেয়াল তোলা হয়েছে, যা দখলের সুযোগ করে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি জেরিনা হোসেন, ইঞ্জি. দেলোয়ার মজুমদার, প্রফেসর ড. সিকান্দর খান, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ।


