সমসাময়িক চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের আলোচিত নাম আশনা হাবিব ভাবনা। নিজের মতো করে কাজ করা, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চরিত্র বেছে নেওয়া এবং শিল্পীসত্তাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য তিনি আলাদা করে নজর কাড়েন। টাইমস অব বাংলাদেশের ঈদের বিশেষ আয়োজন ‘রিদম অব টাইমস’। সৌর বাপ্পার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হয়ে এসেছেন ভাবনা। অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত দর্শন এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের বাস্তবতা।
ভাবনার পর্বটি টাইমস অব বাংলাদেশের ফেসবুক ও ইউটিউবে দেখা যাবে ঈদের দ্বিতীয় দিন (২২ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায়।
অনুষ্ঠানটিতে ভাবনা জানান, তিনি শুরু থেকেই নিজেকে ভিন্নভাবে গড়তে চেয়েছেন। যখন অধিকাংশ অভিনেত্রী জনপ্রিয়তার জন্য একসাথে বহু নাটকে কাজ করেন, তখন তিনি সচেতনভাবে সেই পথ এড়িয়ে গেছেন। তার ভাষায়, একসময় টানা কাজ করতে করতে তিনি উপলব্ধি করেন—শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করা তার লক্ষ্য নয়। বরং মনোযোগ দিয়ে, নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে দিয়ে কাজ করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি কম কাজ, কিন্তু বেছে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে তার যাত্রা শুরু হয় ‘ভয়ংকর সুন্দর’ দিয়ে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অভিনয়কে তিনি এখন ‘গাণিতিক’ ও ‘টেকনিক্যাল’ একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন, যেখানে নিয়মিত চর্চা অপরিহার্য।
তবে ইন্ডাস্ট্রির বাস্তবতা নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ বেশ কঠোর। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ এখনো ব্যাপকভাবে পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত। পরিচালক, প্রযোজক এবং নায়ক—সবাই মিলে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেয় কোন অভিনেত্রী কাজ পাবেন। নারীদের জন্য এখানে টিকে থাকা শুধু প্রতিভার উপর নির্ভর করে না; বরং আরও অনেক অদৃশ্য চাপ ও বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। বয়স, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা সামাজিক ধারণা—সবকিছুই একজন নারী অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন ভাবনা। ভিউ বা ভাইরাল হওয়ার জন্য ভুয়া খবর, অপমানজনক ক্যাপশন কিংবা বিকৃত তথ্য ছড়ানোর প্রবণতাকে তিনি অসুস্থ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন। এসব এড়িয়ে চলতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে কমেন্ট পড়া বা অনলাইন বিতর্কে জড়ানো থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
ব্যক্তিগত জীবনের প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে একা রয়েছি। অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি মনে করেন, ভুল সম্পর্ক একজন মানুষের জীবন ও ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই আপাতত কাজ এবং নিজের সৃজনশীল জগৎ নিয়েই থাকতে চান তিনি।


