পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে আটতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিনজন পথচারী নিহত হয়েছেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বংশাল থানার ডিউটি অফিসার আশীষ কুমার ঘোষ।
নিহতদের মধ্যে একজন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম। তিনি মা ও বোনের সঙ্গে বংশালের কসাইটুলিতেই থাকতেন। এ ঘটনায় রাফির মা নুসরাতও গুরুতর আহত হয়েছেন। অস্ত্রপচারের পরও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহত অপর দুইজন হলেন আব্দুর রহিম (৪৮) ও তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন। নিহতদের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে এএসআই জাকারিয়া হোসেন নয়নের বরাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
এছাড়া ১০ জন আহত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মরদেহ শনাক্তের পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকার একটি আট তলা ভবনের পাশের দেয়াল এবং কার্নিশ থেকে ইট ও পালেস্তারা নিচে খসে পড়ে। সেখানে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। এসময় দোকানে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন।
তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এছাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগে টিনশেড ঘরের ওপর নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের দেয়াল খসে পড়ে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।


