ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবারের ভূমিকম্প আতঙ্কে বিভিন্ন হল থেকে ছাদ ও উঁচু তলা থেকে লাফ দিয়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনগুলোর দেয়ালে নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সকালে হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হলের চারতলা থেকে লাফ দিয়ে একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। একই হলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজীর আহমেদ এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী নিচে লাফ দিলে তারা দুজনও আহত হন।
টাইমস অব বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দিলে তার পা ভেঙে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কবি জসিমউদ্দিন হল ও ফজলুল হক হল থেকেও আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর লাফিয়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি হলে ফাটল দেখা যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু শিক্ষার্থী দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করতে গিয়ে ছাদ ও বারান্দা থেকে লাফ দেন।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার বেলা ১০টা ৩৮ মিনিটে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু অংশ।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে সাত কিলোমিটার দূরে এবং ভূমিপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে সকালে পাকিস্তানেও ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলাদেশে আরেকটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানল।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ঢাকার ভবনগুলো কাঁপতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে ভবনের নিচে নেমে আসেন বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকা থেকে টাইলস ফেটে যাওয়া, টেবিল থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার খবর আসছে। বাড্ডার লিংক রোড এলাকার একটি ভবন পাশের ভবনের ওপর হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।


