সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ। সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী এমিরেটসের একটি বিমান দুবাই হয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে এসে নামে।
মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করেন এবং বিমানবন্দরে উপস্থিত নিহত লিমনের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। মরদেহ গ্রহণ এবং হস্তান্তরে সার্বিক সহায়তা করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ আছে বলে জানান। যুক্তরাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে আছে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়ায় লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এক সময়ে নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহও বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই তার মরদেহ দেশে এসে পৌঁছাবে।
জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা নিখোঁজ হন গত ১৬ এপ্রিল। ১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধু তাদের নিখোঁজের খবর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
আট দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় লিমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে শুক্রবার ট্যাম্পা বে এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর দুই দিনের মাথায় ২৬ এপ্রিল ওই সেতুর কাছের একটি জায়গা থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শনিবার হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ অফিস থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরই সোয়াত টিম সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি সেখানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।


